ভারতে অভ্যন্তরীণভাবে স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে পণ্যটি বেচাকেনায় মূল্যছাড়ও বাড়াচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। চলতি সপ্তাহে তা ছয় মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
মুম্বাইভিত্তিক বেসরকারি বুলিয়ন আমদানিকারক ব্যাংকের এক ডিলার বলেন, ‘স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি চাহিদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ক্রেতারা এখনো দাম কমার অপেক্ষায় আছেন।’
ভারতে চলতি সপ্তাহে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল ৭৯ হাজার ২৭০ রুপি (৯১৫ ডলার ৬০ সেন্ট)। এ সময় দেশটির ডিলাররা অভ্যন্তরীণ দামের ওপর আউন্সপ্রতি ৩০ ডলার পর্যন্ত ছাড় দিয়েছে। গত সপ্তাহে এ ছাড়ের পরিমাণ ছিল আউন্সে ১৭ ডলার।
উল্লেখ্য, এতে ৬ শতাংশ আমদানি ও ৩ শতাংশ বিক্রি কর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
হায়দরাবাদভিত্তিক বুলিয়ন ব্যবসায়ী ক্যাপসগোল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চন্দা ভেঙ্কটেশ বলেন, ‘আগামী মাসে বার্ষিক বাজেট প্রকাশ করবে ভারত সরকার। এ বাজেটে শুল্ক কাঠামো পরিবর্তন করা হতে পারে। তাই তার আগেই আমদানি মজুদ শেষ করতে চায় ব্যবসায়ীরা। এ কারণে সাম্প্রতিক দিনগুলোয় উচ্চ ছাড়ে স্বর্ণ বেচাকেনা করছেন তারা।’
ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান এএনজেড একটি নোটে জানায়, ভারতে স্বর্ণের চাহিদা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। কারণ ৯ শতাংশ আমদানি শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে পর্যালোচনা করছে দেশটির সরকার।
তবে ব্যাংকটি জানায়, চীনে স্বর্ণের চাহিদা সামনের দিনগুলোয় বাড়তে পারে। কারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সমর্থনে আর্থিক নীতি সহজীকরণসহ আরো কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার।
শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশটির ডিলাররা চলতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক দামে প্রতি আউন্সে ৩-১৩ ডলার পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করেছেন, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২-৯ ডলার।
এক ব্যবসায়ী জানান, সিঙ্গাপুরের ডিলাররা ১ ডলার ৮০ সেন্ট পর্যন্ত মূল্য সংযোজন করেছেন। জাপানে তা ছিল আউন্সে ৫০ সেন্ট। এ সময় দেশটিতে স্বর্ণ বেচাকেনায় আউন্সপ্রতি ৫০ সেন্ট মূল্যছাড় দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।